পঞ্জিকা পরিচিতি: তিথি, নক্ষত্র ও পক্ষ কীভাবে বুঝবেন

13 অক্টোবর, 2026

মন্দিরের সামনে রাখা একটি বন্ধ বই, জ্বলন্ত প্রদীপ ও সাদা ফুল; আকাশে সরু চাঁদ।

সনাতন হিন্দুধর্মের পূজা, ব্রত ও উৎসবের দিন জানতে পঞ্জিকা ব্যবহার করা হয়। পঞ্জিকায় সাধারণ তারিখের পাশাপাশি তিথি, নক্ষত্র এবং বিভিন্ন সময়ের তথ্য থাকে। এই শব্দগুলোর অর্থ বুঝলে পঞ্জিকা পড়া সহজ হয়।

পঞ্জিকা হলো দিন, মাস এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময়সংক্রান্ত তথ্যের সংকলন। এতে সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত, তিথি ও নক্ষত্রের মতো বিষয় উল্লেখ করা হয়।

পঞ্চাঙ্গের পাঁচটি প্রধান অঙ্গ হলো বার, তিথি, নক্ষত্র, যোগ ও করণ। এখানে নতুন পাঠকের জন্য তিথি, নক্ষত্র ও পক্ষের প্রাথমিক পরিচয় দেওয়া হচ্ছে।

সূর্য ও চন্দ্রের অবস্থানের পার্থক্যের ভিত্তিতে তিথি নির্ধারিত হয়। গণনায় তাদের দ্রাঘিমার পার্থক্য প্রতি ১২ ডিগ্রি বাড়লে একটি তিথি সম্পূর্ণ হয়।

একটি চান্দ্রচক্রে ৩০টি তিথি থাকে। প্রতিপদ, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী ও একাদশী তিথির কয়েকটি পরিচিত নাম।

তিথি সব সময় ২৪ ঘণ্টার সমান নয়। তাই ইংরেজি ক্যালেন্ডারের তারিখ বদলানো এবং তিথি বদলানো একই সময়ে ঘটে না।

চান্দ্রচক্রের দুটি ভাগ হলো শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষ। প্রতিটি পক্ষে ১৫টি তিথি থাকে।

অমাবস্যার পর চন্দ্রের আলোকিত অংশ ক্রমে বাড়তে থাকে। এই পর্ব হলো শুক্লপক্ষ, যার শেষ তিথি পূর্ণিমা। পূর্ণিমার পর আলোকিত অংশ ক্রমে কমতে থাকে। এই পর্ব হলো কৃষ্ণপক্ষ, যার শেষ তিথি অমাবস্যা।

তাই শুধু “একাদশী” বললে পক্ষ বোঝা যায় না। পঞ্জিকায় শুক্লপক্ষের একাদশী নাকি কৃষ্ণপক্ষের একাদশী, সেটিও দেখতে হয়।

পঞ্জিকার গণনায় চন্দ্রের অবস্থান বোঝাতে আকাশের রাশিচক্রকে ২৭টি নক্ষত্রভাগে ভাগ করা হয়। অশ্বিনী, ভরণী, কৃত্তিকা ও রোহিণী কয়েকটি পরিচিত নাম।

এখানে নক্ষত্র বলতে শুধু একটি আলাদা উজ্জ্বল তারা বোঝানো হচ্ছে না; চন্দ্রের অবস্থান নির্ধারণের একটি নির্দিষ্ট আকাশভাগও বোঝানো হচ্ছে।

কোনো পঞ্জিকায় তিথির পাশে দেওয়া সময়টি তিথি শেষ হওয়ার সময় হতে পারে। যেমন, “একাদশী দুপুর ২টা পর্যন্ত” মানে ওই সময়ে একাদশী শেষ হয়ে পরবর্তী তিথি শুরু হবে। এটি বোঝানোর জন্য দেওয়া উদাহরণ; কোনো বাস্তব দিনের সময়সূচি নয়।

পঞ্জিকার নিজস্ব নির্দেশনা পড়ুন। সময়টি শুরু নাকি শেষ বোঝায় এবং মধ্যরাতের পরের সময় কীভাবে লেখা হয়েছে, তা নিশ্চিত করুন।

সঠিক বছর, তারিখ, স্থান ও সময় অঞ্চল নির্বাচন করুন। অন্য দেশের স্থানীয় সময় সরাসরি বাংলাদেশের সময় হিসেবে ব্যবহার করবেন না।

ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দিন নির্ধারণে তিথির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্রত বা পূজার বিধিও বিবেচিত হতে পারে। প্রয়োজন হলে স্থানীয় মন্দির বা সংশ্লিষ্ট ঐতিহ্যে অভিজ্ঞ পুরোহিতের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

তিথি, নক্ষত্র ও পঞ্চাঙ্গের পরিচয় যাচাই করতে ভারতের আবহাওয়া বিভাগের Positional Astronomy Centre-এর “Rashtriya Panchanga—Explanation” ব্যবহার করা হয়েছে। সময় পড়ার নিয়ম সম্পর্কে Drik Panchang-এর “Reading Panchang Timings” দেখা হয়েছে।

এই লেখা পঞ্জিকা বোঝার প্রাথমিক নির্দেশনা। এতে আজকের তিথি, পূজার নির্দিষ্ট তারিখ বা বিবাহের লগ্ন দেওয়া হয়নি।